শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

বৃহত্তর কুমিল্লার রাজনৈতিক গুরু আবদুল আউয়াল

আজ ২৮/১০/২০১৯ বৃহত্তর কুমিল্লার রাজনৈতিক গুরু গণ-পরিষদ সদস্য
আবদুল আউয়াল সাহেবের 
১২তম মৃত্যু বার্ষিকী।
মরহুম আব্দুল আউয়াল (গণ-পরিষদ সদস্য)

আব্দুল আউয়াল (১৯২১-২০০৭) ১ জুলাই ১৯২১ সালে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার অন্তর্গত চেঙ্গাচাল’ নামক এক নিঝুম গ্রামে মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
মাতা ছায়েদা খাতুন। পিতা মৌলভী ছাঈয়েদ আহমদ।
আবদুল আউয়ালের লাকসামের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা পিতার হাতের লেখা চিঠি পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি 
একনজরে আবদুল আউয়ালের সংগ্রামী দিনগুলিঃ
১৯৩৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িত হন।
১৯৩৮ সালে লাকসাম উপজেলা মুসলীম ছাত্রলীগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৩৯ সালে মুসলীম ছাত্রলীগের অস্থায়ী সভাপতি পরের বছর ১৯৪০ সালে মুসলীম ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
১৯৪২ সালে ত্রিপুরা সদর দক্ষিণ মহকুমা মুসলিম ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক এবং একই বছরে
১৯৪২ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জিলা মুসলিম ছাত্রলীগ সভাপতি ও বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ কাউন্সিল সদস্য ছিলেন।
১৯৪৩ সালে ত্রিপুরা দক্ষিণ মহকুমা মুসলিম লীগ সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
১৯৪৩ সালে ত্রিপুরা জেলা মুসলিম লীগ ও বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ কাউন্সিলর সদস্য হিসেবে কলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক মুসলিম লীগ কাউন্সিলের প্রতিটি সভায় যোগদান করেন।
১৯৪১ সালে পাকিস্তান দিবস পালনের উদ্দেশ্যে হাজার লোকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। এজন্য ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে তাহার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাকসামের গাজীমুড়া আলীয়া মাদ্রাসা হতে বহিষ্কৃত হন।

১৯৪৫ সালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার অন্তর্গত রহিমানগর বাজারে এক জনসভায় -’শয়তানের হুকুমতের কবর দিয়ে তার উপর পাকিস্তানের সৌধ নির্মাণ করিতে চলিলাম’- বলিয়া বক্তৃতা আরম্ভ করিলে ব্রিটিশ সরকার তাকে সর্ব প্রথম গ্রেফতার করেন।

১৯৪৯ সালে লাকসাম উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৩ সালে মহকুমা আওয়ামীলীগ সম্পাদক, বৃহত্তর কুমিল্লা জিলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক।

১৯৪৯ সালে মিস্ ফাতেমা জিন্নার নির্বাচন কালে তাকে মিথ্যা মাইক চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করে এক মাস স্ব-গৃহে অন্তরীন রাখা হয়।

পূর্ব-পাকিস্তানে মুসলিম ন্যাশনাল গার্ড -এর সংখ্যা যখন ছিল প্রায় চার লক্ষ, তখন শুধুমাত্র আব্দুল আউয়াল একাই কঠোর পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন প্রায় পনের হাজার ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী আর হাজার হাজার ছাত্র-কর্মী।
আবদুল আউয়াল লাকসামে বঙ্গবন্ধু শেখ্ মুজিবুর রহমান-কে নিয়ে ১৮/০৪/১৯৫৫ সাল, ১৯৫৬ সাল, ২৫/০২/১৯৫৭ সাল, ০১/১১/১৯৬৪ সাল এবং ১২/১২/১৯৬৪ সালে জনসভা আয়োজন করেছিলেন যার অসংখ্য লিফলেট ও প্রমানাদি রয়েছে, যা স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এ ক্ষেত্রে আব্দুল আউয়ালকে মুক্তিযুদ্ধের একজন ইতিহাস সংগ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা যায় নিঃসন্দেহে।

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ্ মুজিবুর রহমান গণভবনে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করে আব্দুল আউয়াল-কে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা-বানিজ্য এমনকি ঘর-সংসার করার কথাটিও ভাবার সময় পাননি। ১৯৭৬ সালে মায়ের শেষ অনুরোধ রক্ষার্থে ৫৫ বছর বয়সে লাকসামের মিশ্রী গ্রামের শহীদ বুদ্ধিজীবি ডাঃ গোলাম মোস্তফার বিপত্নীক ছোট বোনকে বিয়ে করেন।

২৮ অক্টোবর ২০০৭ তারিখ ভোরের প্রথম প্রহরে লাকসামের নিজ বাসভবনে ইতিহাসের এই মহান ব্যক্তিটি চির বিদায় নেন। যাকে উদ্দেশ্য করে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৫ সালে আব্দুল আউয়াল-কে লেখা অনেকগুলো চিঠির মধ্যে একটিতে লিখেছিলেন- 
‘ভাই আউয়াল, আপনার নিঃস্বার্থ ত্যাগের কথা সকলে ভুলতে পারে কিন্তু আমি ভুলতে পারিনা।’

তথ্য সূত্রঃ- আতাউল করিম জুন্নুন

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৭

শেখ হাসিনা উন্নয়নের মাইলফলক....

আতাউল করিম জুন্নুন
.
.
.
.

০১. স্বপ্নের মৌচাক মালিবাগ ফ্লাইওভার শুভ উদ্ভোধন করলেন শেখ হাসিনা
০২. বস্তিবাসীদের জন্য ১০হাজার আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ শুভ উদ্ভোধন করেন।
০৩. ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুরে মধ্যবিত্ত ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ 
       কাজ শুভ উদ্ভোধন করেন।




গণভবনে ২৬/১০/২০১৭ তারিখ সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল্যবান ৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্ভোধন ও ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর মধ্যে অন্যতম স্বপ্নের মৌচাক মালিবাগ ফ্লাইওভার। মৌচাক মালিবাগ ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ ৮.৭০ কি:মি:। এই ফ্লাইওভারটি নির্মানের ফলে মৌচাক-মালিবাগ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টকর যানজট থেকে মুক্তি পেল সাধারন মানুষ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে ১০হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসময় তিনি বলেন, "ওরাওতো মানুষ, তাদের কি একটু্ অধিকার নেই ভালোভাবে বাঁচার!! ....নিশ্চয়ই অধিকার আছে এবং সেই অধিকারটা সংরক্ষণ করা আমি মনে করি আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।"

বাংলাদেশে এরকম যারা গৃহহারা, ভূমিহারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন, তাদের জন্য একটা কিছু করে দেয়া, তারাও যেন সুন্দরভাবে তাদের জীবনটা বাঁচাতে পারেন সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বস্তিবাসীরা বস্তিতে অমানবিক জীবন যাপন করে। তাদের ঘরভাড়ায় অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ বস্তিতে তাদের জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের দুর্ভোগ লাঘব করা।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা যদি সমাজের ছিন্নমূল মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তাহলে আমাদের জীবন সার্থক হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে। ভাড়ার টাকায় তারা এসব ফ্ল্যাটে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবে।

বিগত ১৯৯৬-২০০১ সালে তাঁর সরকারের শাসনামলে আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং গৃহহীন ও বস্তিবাসীদের জন্য ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা নগরীর ভাষানটেক এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১৬ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম।’
তিনি তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহনের কারনে দেশ অনেকদূর এগিয়েছে বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসিকে অবহিত করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এখন আর গ্রামাঞ্চলে কুঁড়েঘর দেখা যায় না। বরং কুঁড়েঘরের জায়গায় এখন টিনের ঘর তৈরি হচ্ছে। আমাদের এটা করার সামর্থ্য হয়েছে।’

আতাউল জুন্নুন- গণভবন, ২৬ অক্টোবর-২০১৭।