ক্রীতদাস প্রথা দেখিনি দেখেছি গার্মেন্টস শ্রমিক
¬আতাউল করিম জুন্নুন, -সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতার কথা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা ঘোষনা করেছেন।
পিপিই এবং মাস্কের মত পণ্য উ’পাদনকারী
প্রতিষ্ঠান ব্যাতীত সকল গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষনা করার নির্দেশও দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
শুধুমাত্র সাধারণ শ্রমীকদের কষ্টের কথা চিন্তা করে।
এত কিছুর
পরেও শুধুমাত্র মালিক পক্ষের কারণে শ্রমিকদের দিন কাটছে চরম অনিচ্ছয়তার মধ্যদিয়ে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন- শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পাবেন কারণ প্রধানমন্ত্রী পাশে আছেন।
মহানবী (সা”) বলেছেন –শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরী পরিশোধ কর।
কিন্তু দু”’খের বিষয় আমরা তার উল্টো কাজ করি আর কথায় কথায় বলি ৯০% ভাগ
মুসলমান, সত্যিই কি আমরা মুসলমান?
নামে মুসলমান কাজের মুসলমান একজনও না।
যেখানে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে মসজিদে মুসল্লি জমায়েত হতে বারণ করছে জুমার দিনে ১০জন আর অন্য সময় পাঁচ জন একসাথে নামাজ পড়তে বলা হচ্ছে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে এমন শংকায়।
বানিজ্য
মন্ত্রী বলছেন -স্বাস্থ্য বিধি মেনে দেশের তৈরি পোশাক কারখানা খোলা রাখা যাবে।
প্রশ্ন হচ্ছে বানিজ্য মন্ত্রীর সেই স্বাস্থ্য বিধি বলতে তিনি কি বোঝাতে চান?? মানুষ কি এতই বোকা।
``কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হলে তা সবার জন্য মারাত্মক
স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে, এই মর্মে বিজিএমইএ‘র সভাপতি সম্প্রতি শ্রম মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন।
হলিউডের ছবিতে ক্রীতদাসদের অমানবিক কষ্টের কাহিনী দেখেছি পত্র পত্রিকায়
পড়েছি নিষ্ঠুর নির্যাতনের বর্ননা। আর আজকের দিনে সভ্য পৃথিবীতে ক্রীতদাস বেচাকেনা না
হলেও দারিদ্রের কারনে শিল্প কারখানা নামক প্রতিষ্ঠানে ন্যুনতম মজুরীতে নাম
লেখাচ্ছেন শ্রমিকরা। এদের অধিকাংশই গার্মেন্টস শ্রমিক। যারা মাস শেষেও শ্রমের
ন্যায্য মজুরী পায়না। অসুস্থতা জনিত কারণ হোক আর পারিবারিক কারণ হোক দুই তিন দিন
কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরী নামক সোনার হরিণটা হাতছাড়া হয়ে যায় যাদের তারাই হলো
পোষাক শ্রমিক। যাদেরকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দেখেছি তাদের জীবন সংগ্রাম। ২০০৭
সাল থেকে ২০০৮ সাল এই দুই বছর উত্তরার একটি গার্মেন্টস বাইং হাউজে মার্চেন্ডাইজার
হিসেবে কাজ করার সুবাদে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা বলছি। চাকুরী প্রথম তিন মাসে
ফ্যাক্টরীর জুনিয়র একাউন্টস অফিসার হিসেবে সিনিয়রের সাথে শ্রমীকদের বেতন দেয়ার সময়
লক্ষ্য করলাম মাস শেষেও তারা পুরো বেতন পায়না। পরবর্তী মাসের সাত-আট তারিখে আংশিক
আর চৌদ্দ-পনের তারিখে বাকী বেতন পরিশোধ করা হত। আমার সিনিয়রকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম
বিষয়টা কি বুঝলামনা। তিনি আমাকে বললেন যদি পুরো বেতন এক সাথে দিয়ে দেয়া হয় তাহলে
নাকি ওরা চাকরী ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবে তাই এই ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিটি আমাকে ভীষন
মর্মাহত করেছিল সেদিন। আজও মর্মাহত হই যখন টিভির পর্দায় দেখি হাজারে হাজারে শ্রমিক পায়ে হেটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসে কাজে যোগ দিচ্ছে শুধুমাত্র
দারিদ্রতার কারনে। যে মূহুর্তে সারা পৃথিবীর মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মহামারি করোনার হাত থেকে বাঁচতে লক ডাউন করা হয়েছে। আর
আমার দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও সাধারণ ছুটি ঘোষনা
করেছেন।
কিন্তু অত্যন্ত দু”খ ও পরিতাপের বিষয় আজ উ’পাদনের নামে স্বাস্থ্য বিধি মেনে
কলকারখানা চালু রাখার কথা বলছেন কার সাথে আলাপ করে? কার পরামর্শে? তিনি কি
শ্রমিকদের সাথে আলাপ করেছেন, নাকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রী কিংবা রেলপথ
মন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করেছেন। যাই হোক শ্রমিকরা কাজে যোগ দিবে মালিকদের শিল্প
কারখানা বাঁচাবে মালিকরা বাঁচলেই হবে শ্রমিকদের জীবনের কিইবা মূল্য আছে তাদের
কাছে। তারাতো ঘরে বসে সিসিটিভি দেখবেন ল্যাপটপে কাজ করবেন করোনাতো তাদের কাছে যেতে
পারবেনা।
একদেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না আপনি আমি হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবো আর শ্রমিকরা দল বেঁধে কাজ করবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে!
একদেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না আপনি আমি হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবো আর শ্রমিকরা দল বেঁধে কাজ করবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে!
আল্লাহর ওয়াস্তে এসব বন্ধ করুন তা নাহলে আপনি আমি কেহই ভাল থাকতে পারবো না।
পোশাক শ্রমিকরা এখন কী করবেন?
(সূত্র: বিবিসি)
(সূত্র: বিবিসি)
চাকরি বাঁচানোর দায় নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ফেরা পোশাক শ্রমিকরা পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। জীবন বাজি রেখে ফিরে তারা জানতে পারেন কারখানা বন্ধের সময় বেড়েছে। এদিকে রবিবার থেকে ঢাকায় ঢোকা ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ফলে তারা বাড়ি ফিরে যেতেও পারছেন না।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের সাথি সরকার গাজীপুরের একটি রপ্তানি-মুখী পোশাক কারখানায় কাজ করেন, তিনি বলছিলেন কত হেনস্থার শিকার হয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন তিনি। "বাড়ি থেকে হাইটা আসছি অনেক রাস্তা, তারপর পিকআপে আসছি কয়েক কিলো রাস্তা। তারপর হুন্ডায় (মোটরসাইকেল) আইছি ময়মনসিংহ পর্যন্ত। সেইখানে রাইতে থাইকা সকালে কিছুদূর অটো-রিকসা ও সিএনজি, এবং পরে আবার পিকআপে চইড়া আসছি আমরা। তিন ঘণ্টার রাস্তা, দুইদিন ধইরা আসছি। খরচ হইছে একেকজনের জন্যে চার হাজার টাকার মত। এত কষ্ট কইরা আসছি কারণ খোলার দিন না থাকলে যদি চাকরি না থাকে! আবার এখন তো বেতনের টাইম, যদি বেতন না দেয়, সেই ভয়ে।"
সাথির মতই কারখানার প্রধান ফটকে টাঙ্গানো নোটিস দেখেই ছুটি বাড়ার বিষয়ে জানতে পেরেছেন টঙ্গীর পোশাককর্মী চুমকি সুলতানা। এখন খামু কী, চলমু কেমনে, সেই চিন্তায় আছি। বাড়িওয়ালারা এখনও কিছু বলতাসে না, কিন্তু দোকানদাররা দশ টাকার জিনিসও বাকি দিতে চাইতাসে না। হেরা মনে করতাসে বেতন পাইনা, বাকি নিয়া পালাইয়া যামু, তাই বাকি দিতাছে না।"
সাধারণ ছুটি ঘোষণার
মেয়াদ বেড়েছে ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত। আর ১০ ও ১১ই এপ্রিল শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ১২ তারিখ থেকে কর্ম-দিবস শুরু হবার কথা ছিল।

দারুন লিখেছেন এই গার্মেন্ট খাত টাকে ধ্বংস করলো প্রণোদনা ব্যবস্থা দিনের পর দিন একটা খাতকে এভাবে প্রণোদনা আর রপ্তানিকে উৎসাহিত করার নামে এদের থোক বরাদ্দ এসব কিছুই এই খাতকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে , আর এই খাত ধ্বংসের আগে এরা শুধরাবেও না
উত্তরমুছুনগার্মেন্টস খাত ধ্বংস হবে কি হলে ক্ষতিটা কিন্তু এই দেশেরই হবে।
উত্তরমুছুনপ্রায় ত্রিশ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।
সে সাথে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হবে যা কোনভাবেই কাম্য নয়।
আমরা চাই গার্মেন্টস শিল্প বেঁচে থাকুক সে সাথে শ্রমিকদের জীবন বাচুক।