মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০

#মহামারী ছড়ানো কিয়ামতের নিদর্শন


#মহামারী ছড়ানো কিয়ামতের নিদর্শন

বর্তমানে সারা বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে ইতোমধ্যে মহামারী হিসেবে ঘোষনা করেছে। 
Image may contain: flower
আমাদের দেশটি এমনিতেই ঘন বসতির দেশ, আবেগী জাতী, হুজুগে, গুজবে বাঙালী আমরা। কিছু হলেই সরকারের দোষ, এটা হলোনা কেন, ওটা করেনা কেন। এক ইতালী প্রবাসী রীতিমতো দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে বিদেশ থেকে এসে হজ্ব ক্যাম্পে না থেকে বাড়ী চলে গেলেন।
আরেকজন আমেরিকা থেকে এসে আবার ফিরেও গেলেন পুরো পরিবারকে বিপদে ফেলে। ফলাফল কি দাঁড়াল, পরিবারের সত্তোরোর্ধ একজনের মরণের মধ্যদিয়ে মৃতের তালিকায় প্রথম নাম লেখালেন।
Image may contain: one or more people, people standing, crowd and outdoor
অপরদিকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কেন বন্ধ ঘোষনা করছেনা। আর যখন ছুটি ঘোষনা করা হল তখন কি দেখছি?
সমুদ্রে পাহাড়ে উপচে পড়া ভিড় আনন্দ উল্লাসে সমুদ্র স্নান।
আমরা মানুষ হব কবে... সিঙগায় ফু দিলে !!

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কখনই মানুষ হবে না আবার কিছু মানুষ আছে যারা নিজের ভালর সাথে অপরের ভাল চিন্তা করে। দুনিয়ার চিন্তা নয় পরপারের চিন্তাও করে। 
আর আমার লেখার বাকী অংশটুকু শুধু তাদেরই জন্য---
আসুন মহামারীতে আতঙ্কিত না হয়ে ধর্ম কর্মে মনোযোগী হউন ইনশাআল্লাহ সফল হবেন আপনি।
মহামারী সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।’ 
(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯)

মহামারী দেখা দিলে করণীয়ঃ
বেশির ভাগ মহামারীই সংক্রামক। তাই রাসুল (সা.) মহামারীর সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত অঞ্চলে যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছেন। মুমিন ইমান ও ইখলাসের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করবে।

তাই মহামারীর ব্যাপারে মহানবী (সা.) বলেন, ‘কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা ছেড়ে চলে এসো না। আবার কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করে থাকলে, সে জায়গায় গমন করো না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১০৬৫)



মহামারীতে মৃত ব্যক্তি শহীদ
মহামারীতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে পাপী-জাহান্নামি মনে করা যাবে না। মহানবী (সা.) মহামারীতে মারা যাওয়া ব্যক্তিও শহীদ হিসেবে গণ্য করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘পাঁচ প্রকার মৃত শহীদ মহামারীতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করেছে।’ (বোখারি, হাদিস : ২৮২৯)

মহামারীর সম্পর্কে আরো কিছু হাদিসঃ
১। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মহামারীর কারণে মারা যাওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত।’ (বোখারি, হাদিস : ২৮৩০)
মহামারী পীড়িত গ্রাম বা শহরে প্রবেশ নিষেধ। পক্ষান্তরে কেউ যদি পূর্ব থেকেই আক্রান্ত যায়গায় থেকে থাকে তাহলে সেখান থেকে পলায়ন করাও নিষেধ। মহামারী আক্রান্ত এলাকা থেকে পলায়ন করা জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করার মতোই অপরাধ। – (বুখারী ৩৪৭৩, ৫৭২৮)
২। যখন মহামারী ছড়িয়ে পড়বে, আর তুমি সেখানেই রয়েছো, তখন সেখানে তুমি অবস্থান করবে (সেখান থেকে পলায়ন করবে না)। –(মিশকাতুল মাসাবীহ ৬১)
৩। মহামারী কারো কারো জন্য পরীক্ষাও বটে। উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’প্লেগ শাস্তির প্রতিক। মহীয়ান গরীয়ান আল্লাহ তায়ালা তা দ্বারা তাঁর বান্দাদের কতিপয় ব্যক্তিকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। তাই কোনো অঞ্চলে এর প্রভাবের খবর পেলে, তোমরা সেথায় যেয়ো না এবং কোনো অঞ্চলে অবস্থানকালে সেখানে প্লেগ লক্ষ্য করলে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে না।’’  -(মুসলিম ৫৬৬৬-(৯৩/…)
৪। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃ)-কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, উত্তরে তিনি বলেনঃ ‘’এটি এক ধরনের আযাব। আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন, তাঁদের উপর তা প্রেরন করেন। আর আল্লাহ তায়ালা তাঁর মু’মিন বান্দাগনের উপর তা রহমত করে দিয়েছেন। 
অতএব কোনো ব্যক্তি যখন প্লেগ রোগে আক্রান্ত যায়গায় সাওয়াবের আশায় ধৈর্যধারন করে অবস্থান করে এবং অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তা-ই হবে, এছাড়া আর কোনো বিপদ তার উপর আসবে না, তাহলে সে একজন শহীদের সমান সাওয়াব পাবে’’ --(বুখারী ৩৪৭৪, ৫৭৩৪, ৬৬১৯;)

মহামারী থেকে বাঁচার দোয়া
হাদিসে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে ‘বিসমিল্লা-হিল্লাজি লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামি উল আলিম’। সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি আকস্মিক কোনো বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর আচমকা কোনো বিপদ আসবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮৮)
দোয়ার অর্থ : ‘আল্লাহর নামে যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে      না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’

[কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ-জুন্নুন, হাদিসের উক্তিগুলোয় যদি ভুল থাকে দয়া করে জানাবেন সংশোধন করে নেব]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন