সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মমতাজ বেগম অ্যাডভোকেট আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই !!
চলে গেলেন না ফেরার দেশে...
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময়ের মহান জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মমতাজ বেগম ১৬ মে শনিবার দিবাগত রাত ১২.২০ মিনিটের সময় ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি গভীর শোক বাণী প্রকাশ করেন।
১৯৪৬ সালের ১৩ এপ্রিল ব্রাক্ষনবাড়ীয়ার শিমরাইলে জন্মগ্রহন করেন মমতাজ বেগম। তাঁর পিতা আবদুল গনি ভূঁজ্ঞা আর মাতা ছিলেন জাহানারা খানম।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউর রহমান- এর সহ-ধর্মিনী।
ভিডিও লিংকঃ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারন
https://www.facebook.com/watch/?v=1202652013420220
ভিডিও লিংকঃ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারন
https://www.facebook.com/watch/?v=1202652013420220
বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত মমতাজ বেগম ১৯৭০ সালে গণ-পরিষদ সদস্য, এম.এন.এ এবং ১৯৭৩ সালে মহান জাতীয় সংসদের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন।
মমতাজ বেগম ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ছাত্রজীবনে কুমিল্লা সরকারী ওমেন্স কলেজের ভিপি ছিলেন।
মমতাজ বেগম ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ছাত্রজীবনে কুমিল্লা সরকারী ওমেন্স কলেজের ভিপি ছিলেন।
১৯৭১ এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ বেগম ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা নারী জাগরনের পথীকৃত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ইডেন কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন তখন মমতাজ বেগম কুমিল্লা সরকারী মহিলা কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। সেই সুবাদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছাত্রী জীবনের সংগ্রামী কর্মকাণ্ডের নিকটতম সঙ্গী মমতাজ বেগম ৷ স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি তৈরির কাজে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী সরকারের ভেতরে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বীর নারী ৷
১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ -তে ভর্তি হন। ফলে এই দুই সংগ্রামী নেত্রী একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আন্দোলনকে চাঙ্গা করে তোলেন৷ তাঁরাই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেন৷ সেই থেকে এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন মমতাজ৷
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বাড়ি মরিচা হাউসে মহিলাদের সামরিক ও প্রাথমিক পরিচর্যার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন মমতাজ৷ এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আগরতলায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী – বিএসএফ’এর সদর দপ্তরে অস্ত্র চালনা এবং যুদ্ধ পরিচালনার উপর প্রশিক্ষণ নেন৷ এসব বিষয়ে অন্যান্যদের নানা স্থানে প্রশিক্ষণ প্রদানও করেন তিনি৷ ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু হওয়া পাক হানাদার বাহিনীর নৃশংস হামলা ও নির্যাতনের শিকার নারীদের সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর৷ ‘মহিলা সংঘ’ নামে একটি সেবা সংগঠনের মাধ্যমে শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ এবং উদ্বুদ্ধকরণের কাজ করেন তিনি৷
এমনই অসংখ্য করুণ পরিস্থিতি পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ছিনিয়ে এনেছেন মমতাজের মতো বীর নারী-পুরুষ৷ তবে স্বাধীনতার পরও থেমে যাননি মমতাজ৷ চালিয়ে গেছেন দেশ ও জাতি গড়ার কাজ৷ অধ্যাপনা, রাজনীতি এবং আইন পেশার সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন তিনি৷
বাংলাদেশ মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে ১২ মার্চ ২০০৯ সাল থেকে দায়িত্বপালন করছিলেন অধ্যাপক মমতাজ বেগম।
তিনি ছিলেন নিরংকারী সদা হাস্যজ্জল অনন্য প্রতিভাধর।
গুনী এই মানুষটি সারা জীবন সাদামাটা জীবন যাপন
করেছেন।
তিনি ছিলেন নিরংকারী সদা হাস্যজ্জল অনন্য প্রতিভাধর।
গুনী এই মানুষটি সারা জীবন সাদামাটা জীবন যাপন
করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন শোক প্রকাশ করেছেন।তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
আজ দুপুর বাদ যোহর মরহুমার নামাজে জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

