সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

হাইস্পিড ট্রেনের সুবিধা লাকসামের মানুষেরও অধিকার। 
আতাউল করিম জুন্নুন




পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রবেশদ্বার বলা হয় লাকসাম রেলওয়ে জংশনকে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই রেলওয়ে জংশন তাঁর জৌলুস হারিয়েছে। ‘কত লাকসাম কত বাত্তি’ খ্যাত এই জংশন এখন যাত্রীদের কাছে ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাকসাম রেলওয়ে জংশনকে বাঁচাতে হবে, ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন যার যার অবস্থান হতে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা।

 টিকেট স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে ঐতিহ্যবাহী এই রেলওয়ে জংশনের যাত্রীদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে যাতে করে আরো উন্নত করা যায় এ ব্যাপারে মাননীয় রেলপথ মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে লিখিত আকারে কিছু আবেদন নিবেদন করলাম।
বিশেষ করে হাইস্পিড ট্রেনের একটি স্টপেজ বা স্টেশন লাকসাম জংশনে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আমি ব্যাক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছি।
কেননা লাকসামে #হাইস্পিড ট্রেনের একটি স্টপেজ বা স্টেশন হলে নোয়াখালী, চাঁদপুর এমনকি বরিশালসহ অত্র অঞ্চলের যাত্রীরা সর্বাধুনিক ও উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থার সুবিধা পাবে এবং যাতায়াত দ্রুত ও সহজ হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে সেকশন বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। বর্তমানে ঢাকা থেকে ট্রেন বৃত্তাকার পথে টঙ্গী- ভৈরববাজার-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রাম ভ্রমণে অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। প্রস্তাবিত দ্রুতগতির রেলপথটি যাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মধ্য দিয়ে।

হাইস্পিড ট্রেন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক স্টাডি রিপোর্ট আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে উনারা দেখিয়েছেন যে, এই ট্রেন চালু হলে বিরতি দিয়ে ৬৯ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা যাবে। আর বিরতি না দিলে ৫৭ মিনিটে পৌঁছানো যাবে। তবে এটার জন্য আলাদা লাইন তৈরি করতে হবে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে সরাসরি এই ট্রেন চট্টগ্রামে আসবে।’ সেক্ষেত্রে লাকসাম-কে বাদের তালিকায় রাখা হয়েছে।
যদি তাই হয় তাহলে সেটি হবে লাকসাম-নোয়াখালী, চাঁদপুর-বরিশালসহ গোটা অঞ্চলের মানুষের জন্য দুঃখজনক। কারণ একবার সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে পরে আর সংশোধনের উপায় থাকবেনা।
হাইস্পিড ট্রেনের সুবিধা লাকসামের মানুষেরও অধিকার। এই সু-সময়ে বঞ্চিত হলে দুঃখ করেও পার পাবোনা। কেননা বর্তমানে সরকারের দুই দুইজন শীর্ষ মন্ত্রী যথাক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জনাব তাজুল ইসলাম এবং অর্থমন্ত্রী জনাব আ.হ.ম. মোস্তফা কামাল সাহেব রয়েছেন সরকারের নীতি নির্ধারক হিসেবে। তাই এখনই সু-সময় নিজ নিজ এলাকার বৃহত্তর উন্নয়নের স্বার্থে দৃশ্যমান  অবদান রাখার। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন